মঙ্গলবার, ২৮শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কালবৈশাখীতে লণ্ডভণ্ড পেকুয়া, বিদ্যুৎহীন লক্ষাধিক মানুষ

ঝড়ে ঘরবাড়ি-ফসলের ব্যাপক ক্ষতি, ভেঙে পড়েছে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা

পেকুয়া সংবাদদাতা :

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে জনজীবন মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেল ৫টা পর্যন্ত পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবাও ভেঙে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে হঠাৎ করেই শুরু হয় কালবৈশাখীর তাণ্ডব। প্রবল ঝড়ো হাওয়া, ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায় প্রকৃতি। বিভিন্ন এলাকার টিনের ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ে, উপড়ে যায় অসংখ্য গাছপালা। অনেক স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি ও ট্রান্সফরমার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
মগনামা ইউনিয়নের মহরী পাড়ায় ছাদেক হোসেনের বাড়ির সম্পূর্ণ চাল ও গোয়ালঘর উড়ে যাওয়ার ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। উপজেলার বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কে গাছ পড়ে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে, ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও বিঘ্ন ঘটে।
ঝড়ের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কৃষকরা। ফসলি জমিতে আধাপাকা বোরো ধান নুয়ে পড়েছে এবং শাকসবজি ও অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পেকুয়া ইউনিয়নের কৃষক বেলাল জানান, ঝড়ে তার একাধিক ক্ষেতের ধান নষ্ট হয়ে গেছে, ফলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাবে।
শিলখালী ইউনিয়নের কৃষক আবু মিয়া বলেন, তার জমির প্রায় সব ধানই ঝড়ে নুয়ে পড়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এ অবস্থায় ভালো ফলন পাওয়া কঠিন হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে সরকারের সহায়তা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
অন্যদিকে, মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন থাকায় আর্থিক লেনদেনেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। চৌমুহনী এলাকার বিকাশ ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন জানান, নেটওয়ার্ক না থাকায় মানুষ জরুরি অর্থ লেনদেন করতে পারছেন না, ফলে ভোগান্তি বেড়েছে।
পেকুয়া পল্লী বিদ্যুতের এজিএম খন্দকার মোহাম্মদ ফিরোজ কবির বলেন, ঝড়ে গাছের ডালপালা পড়ে বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত লাইন দ্রুত মেরামতের কাজ চলছে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন।
এদিকে, পেকুয়া ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত বড় ধরনের হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এমদাদুল হক শরীফ বলেন, আকস্মিক এই কালবৈশাখী ঝড়ে তাৎক্ষণিক বড় কোনো প্রাণহানির খবর না পাওয়া গেলেও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

শেয়ার করুন