শুক্রবার, ৯ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বাঁশখালীর ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রেটি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে 

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি :

চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ সংকটে পড়তে যাচ্ছে। চাহিদার চেয়ে ও উৎপাদন বেশি থাকার সত্ত্বেও বিপিডিবি বকেয়া টাকা পরিশোধ না করায় অর্থ সংকটের কারণে
উৎপাদন ব্যাহত  হচ্ছে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপকূল গন্ডামারায় অব‌স্থিত ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে প্লানটির উৎপাদন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রকল্প সং‌শ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) জানান বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (বিপিডিবি) তিন হাজার কোটিরও বেশি টাকা বকেয়া রাখায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিপিডিবি বকেয়া টাকা পরিশোধ না করায় এসএস পাওয়ার আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ করে দিবে। বকেয়ার পরিমাণ বেশি হওয়ার কারণে কয়লা বুকিং দেয়ার মতও পর্যাপ্ত টাকা বর্তমানে এসএস পাওয়ারের কাছে নেই। এসএস পাওয়ার সুদূর ইন্দোনেশিয়া থেকেই কয়লা আমদানি করে থাকে।

এদিকে চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিদ্যুৎ চাহিদার পরিমাণ ১৬০০ মেগাওয়াট। তার মধ্যে এসএস পাওয়ার থেকেই সরবরাহ করা হয় ১২২৪ মেগাওয়াট। এস এস পাওয়ার বন্ধ হয়ে গেলে চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ বিপর্যয় নেমে আসবে লোডশেডিং বাড়বে যা শিল্প ও জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে এবং দেশ বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

চী‌নের সেফ‌কো থ্রির উ‌দ্যো‌গে পরিচালিত ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি শুরু থে‌কে নানা ঘটনার জন্ম‌দি‌লেও এ কেন্দ্র থে‌কে জাতীয় গ্রী‌ডে বিদ্যুৎ সরবরাহ যুক্ত হওয়ার পর জনগণ-এ থেকে আশার আ‌লো দেখেছিল।

উ‌ল্লেখ্য, ২০২৩ সা‌লের ১৪ জানুয়ারি বাঁশখালীর ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টটি জাতীয় গ্রিডের ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইনের সঙ্গে যুক্ত হয়। এরপর গত ২৪ মে থেকে জাতীয় গ্রিড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করে। দেশের শিল্প প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপ ও চীনের সেফ‌কো থ্রির মালিকানাধীন ২০১৬ সালে বেসরকারি খাতের সবচেয়ে বড় এই বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও এসএস পাওয়ারের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল। পরবর্তীতে এস আলম গ্রুপ থেকে এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টটি নিজেদের আয়ত্তে নিয়ে আসেন চীনের সেফ‌কো থ্রি কোম্পানি, এমনটাই জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সূত্র আমার দেশ

শেয়ার করুন