অসৎ ব্যবহার ও বিশ্বব্যাপী বিপর্যয়
বিল গেটস জানান, দুষ্কৃতকারী বা অসৎ উদ্দেশ্যসম্পন্ন কোনো গোষ্ঠী যদি সর্বাধুনিক এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে, তবে বিশ্বজুড়ে অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে। এই ভয়াবহ ঝুঁকি এড়াতে সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবিলম্বে কার্যকর নিরাপত্তা ও কঠোর নজরদারির আইনি কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। তিনি স্বীকার করেন যে, এ জাতীয় কঠোর নিয়ন্ত্রণ শিল্পখাতের ওপর কিছুটা চাপ তৈরি করতে পারে, তবে তা এআই উন্নয়নের মূল গতিকে থমকে দেবে না।
৫ বছরে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে ‘সুপারইন্টেলিজেন্ট’ এআই
বিল গেটসের এই মন্তব্যের মাত্র কয়েক দিন আগে যুক্তরাজ্যের অ্যালান টুরিং ইনস্টিটিউট একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করে। ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আগামী ৫ বছরের মধ্যে ‘সুপারইন্টেলিজент’ এআই মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার জোরালো ও বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়:
- ভবিষ্যতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের প্রায় সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।
- এআই যদি এমন সিদ্ধান্ত বা কৌশল তৈরি করে যা মানুষ বা পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান মূল্যায়ন করতে অপারগ, তবে প্রযুক্তিটির ওপর থেকে মানুষের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ একেবারেই হারিয়ে যাবে।
- এর ফলে ভয়াবহ রাসায়নিক ও জৈবিক হুমকি তৈরির পাশাপাশি বৈশ্বিক তথ্যব্যবস্থা এবং গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর চরম নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের মারাত্মক আশঙ্কা
প্রযুক্তি খাতের অন্যান্য শীর্ষ বিশেষজ্ঞরাও একই ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছেন। এআই গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই এর আগে ফ্রন্টিয়ার এআই উন্নয়নে সাময়িক বিরতি, নিরপেক্ষ তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে মূল্যায়ন, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড নির্ধারণ এবং চীনের মতো পরাশক্তিগুলোর সঙ্গে বৈশ্বিক চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছেন।
এ ছাড়া, অ্যানথ্রপিকের সাবেক গবেষক জ্যাকব কক্সন সতর্ক করে বলেছেন, চলতি দশকের শেষ নাগাদ এআই মানুষের অস্তিত্বের জন্যই হুমকি হয়ে উঠতে পারে। একই প্রতিষ্ঠানের অ্যালাইনমেন্ট সায়েন্সের প্রধান ইভান হুবারিঙ্গ আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, আগামী এক দশকের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে
মানবজাতি চরম বিপদে পড়ার সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি।















