গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এর পক্ষ থেকে ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীদের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি ২০২৫-২০২৬ এর আওতায় চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের তালিকাভুক্ত ৪৮ জন রোগীকে জন প্রতি ৫০ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়|
হাসপাতালের লেকচার হলে কার্যনির্বাহী কমিটির প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ হোসেন এর সভাপতিত্বে এবং জেনারেল সেক্রেটারী মোহাম্মদ রেজাউল করিম আজাদ এর সঞ্চালনায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ ০২ মে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উক্ত অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সমাজসেবা কার্যালয়ের বিভাগীয় পরিচালক,
মো. শহিদুল ইসলাম, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, উপ-পরিচালক,মো. ওমর ফারুক, অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন কার্যনির্বাহী কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুল মান্নান রানা, ট্রেজারার অধ্যক্ষ ড. লায়ন মোহাম্মদ সানাউল্লাহ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ বলেন, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল একটি ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিষ্ঠান| স্বাস্থ্য সেবার পাশাপাশি এখানে মেডিকেল কলেজ, নার্সিং কলেজ, ক্যান্সার হাসপাতাল, পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেনিং, চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণাসহ বহুবিধ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে| সরকারের পাশাপাশি বেসরকারী পর্যায়ে চিকিৎসা সেবায় এই প্রতিষ্ঠান নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে| সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প হলো এই অসহায় রোগীদের সহায়তা প্রকল্প| আমরা আশা করি এর মাধ্যমে এই সব অসহায় রোগীদের কিছুটা হলেও সহায়তা হবে| আপনারা আরো জানেন বর্তমান সরকারের অন্যতম একটি নির্বাচনী অঙ্গীকার ফ্যামিলি কার্ড প্রদান| এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে| যার কারণে আমরা অত্যন্ত ব্যস্ততার মধ্যে সময় পার করছি| এরপরও আপনাদের অনুরোধে অল্প সময়ের জন্য আমি চট্টগ্রামে এসে আপনাদের অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করেছি এবং এই হাসপাতালকে দেখার সুযোগ হয়েছে| আমি আশা করি আপনারা অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে সরকারী এই চেকগুলো বিতরণ করবেন এবং এর ডকুমেন্ট গুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করবেন| কারণ এগুলো সরকারের পক্ষ থেকে অডিট করা হবে| সরকারের যেকোন আর্থিক সহায়তা বা ব্যয় এর জন্য আপনাকে অডিটের মুখোমুখি হতে হবে| এজন্য এগুলোর ডকুমেন্টেশন যথাযথভাবে রাখতে হবে| প্রধান অতিথি আরো বলেন, বর্তমানে দেশে নার্সদের প্রচুর চাহিদা রয়েছে| আমি জেনে অত্যন্ত খুশি হয়েছি যে, আপনাদের নার্সিং ইনষ্টিটিউট ও নার্সিং কলেজ রয়েছে| তিনি কোয়ালিটি নার্স এবং কোয়ালিটি ডাক্তার তৈরির জন্য গুরুত্বারোপ করেন| এছাড়া নার্সিং এর পাশাপাশি কেয়ার গিভিং প্রশিক্ষণের বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন| মাননীয় প্রধান অতিথি এই ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীদের জন্য আরো ২৫ লক্ষ টাকার চেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করেন| কার্যনির্বাহী কমিটির প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ হোসেন মাননীয় সচিব মহোদয়কে হাসপাতাল পরিদর্শনে আসার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান| তিনি আরো বলেন, অবশিষ্ট চেক সমূহ আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে রোগীদের মাঝে বিতরণ করা হবে| অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. আসিফ জাহান সিকদার, হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মো. আবুল হাশেম, মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল প্রফেসর (ডা.) অসীম কুমার বড়ুয়া, পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. নূরুল হক, কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর (ডা.) মো. জালাল উদ্দিন, পরিচালক (মেডিকেল এ্যাফেয়ার্স) ডা. এ. কে. এম. আশরাফুল করিম, পরিচালক (ফিন্যান্স) মো. রফিকুল আলম এফসিএমএ, উপ-পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন, নার্সিং কলেজের প্রিন্সিপাল মিসেস স্মৃতি রানী ঘোষ, নার্সিং ইনষ্টিটিউটের প্রিন্সিপাল মিসেস ঝিনু রানী দাশ, নার্সিং সুপারিনটেনডেন্ট মিসেস রনজু কনা পাল প্রমুখ|
সংবাদটির পাঠক সংখ্যা : ১১












