মঙ্গলবার, ৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কে.সি.দে ইনস্টিটিউট অফিসার্স ক্লাবের নির্বাচন ও ৮৭ তম সাধারণ সভা সম্পন্ন

0-0x0-0-0#
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের মিনিষ্টেরিয়াল অফিসার্স সমন্বয়ে ১৯১৩ সালে ননগেজেটেড অফিসার্স ক্লাব নামে একটি সাংস্কৃতিক বিষয়ক ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়।
তৎকালীন বিভাগীয় কমিশনার স্বর্গীয় কেসিদের নির্দেশনায়  ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর মি. জি.পি. হগ চট্টগ্রাম টাউন কাশমহলের অধীনে ৪০ শতক খিলা শ্রেণীর সরকারি খাস জমি ক্লাবের অনুকূলে ১১ অক্টোবর ১৯১৫ সালে  সম্পাদিত কবুলিয়তনামা প্রদান করেন। ক্লাবের সদস্যবৃন্দ এই জমি পাওয়ায় কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তৎকালীন বিভাগীয় কমিশনারের স্মরণে  নন -গেজেটেড অফিসার্স ক্লাবের নাম পরিবর্তন করে ক্লাবের নামকরণ করেন কে.সি.দে ইনস্টিটিউট অফিসার ক্লাব। মূলত চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে কর্মরত ২য় ও তৃতীয় শ্রেণীর  কর্মচারীদের সংগঠন কে.সি.দে ইনস্টিটিউট অফিসারস ক্লাব ।
প্রতি দুই বছর পর পর  কে.সি.দে ইনস্টিটিউট অফিসারস ক্লাব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তারই ধারাবাহিকতায় ২ মে স্থানীয় রঙ্গম কনভেনশন হলে নির্বাচন ও বার্ষিক সাধারণ সভা অনুস্টিত হয়েছে।সংগঠনের বিধি মোতাবেক  ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কার্যকরী কমিটির মধ্যে ১০ জন জেলা প্রশাসকের ও ৫ জন বিভাগীয় কমিশনার  অফিস থেকে সংগঠন পরিচালনার দায়িত্বে থাকেন।
এবারের নির্বাচনে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে ১০ জনের বেশি কেউ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি, ফলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তারা সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। অপরদিকে বিভাগীয় কমিশনার  কার্যালয় থেকে ৭ জন প্রার্থী হওয়ায় নির্বাচনের আয়োজন করা হয়।
জেলা প্রশাসক কার্যালয় হতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতরা হয়েছেন, মো: আলী, মো: নাছির উদ্দীন, স্বদেশ শর্মা, মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, সৈয়দ মো: এরশাদ আলম, মো: সাইফুর রহমান, রিয়াজ উদ্দিন আহামদ, চৌধুরী নিউটন বড়ুয়া, মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন ও মো: খোরশেদ  আলম। অপরদিকে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় হতে ৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বী  প্রার্থীর মধো সর্বোচ্চ ২০৩ ভোট পেয়েছেন প্রথম হয়েছেন মো: আবুল হোসেন, ১৮৯ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন মো: কামাল হোসেন, ১৮৭ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন মো: আক্তার হোসেন, ১৬৭ ভোট চতুর্থ হয়েছেন উদয় শংকর সেন, ১৩৯ ভোট পেয়ে পঞ্চম স্থান অধিকার করেছেন মোঃ আমির হোসেন । মোট ভোটার সংখ্যা ২৯৫, ভোট কাস্ট হয়েছে ২৩২ টি।
বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের সভাপতিত্বে  সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সবদের হোসেন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল কাদেরের যৌথ সঞ্চালনায় সাধারণ সভায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আগামীতে পদের বিপরীতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, দুইজন মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা পদ সৃষ্টি সহ ক্লাবের সদস্য বয়স্কদের জন্য চিকিৎসা ভাতা ও মৃত্যু জনিত অনুদান ৩০,০০০ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল মোঃ কাদের  বলেন, আমি ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে চাকুরীতে যোগদানের পর ২০০৮ সাল থেকে ২০২৬ পূর্ববর্তী যতগুলি নির্বাচনে আমি অংশগ্রহন করেছি প্রত্যেকটি নির্বাচনে নতুন এবং পুরাতনরা সবাই মিলে সর্বোচ্চ ভোটে  বিজয় করেছেন।প্রথমে নির্বাহী সদস্য, সাহিত্যে পাঠাগার সম্পাদক সহ সর্বশেষ যুগ্ন সাধারণ  সম্পাদক দায়িত্ব পালন করেছি। নতুনদেরকে সুযোগ করে দিতে এবার নির্বাচন করছিনা। আমার প্রস্তাবনা মধ্য দিয়ে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। যেহুতু এটি  সাংস্কৃতিক  সংগঠন কাজেই সর্বপ্রথম  প্রয়াস নামের একটি ম্যাগাজিন সম্পাদনা করি। এই পর্যন্ত ৬ টি ম্যাগাজিন সম্পাদনা করেছি। প্রতিষ্টাতা হিসেবে স্বর্গীয় কেসিদের নামটা স্থাপন করার মতো দূর্লভ কাজটাও করেছি।আগামীর পরিচালনা পর্ষদ প্রতিষ্টানের জায়গায় টা উদ্ধার করার বিষয়ে চেষ্টা করবেন।
জেলা প্রশাসক কার্যালয় হতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নব নির্বাচিত সদস্য মো: জামাল উদ্দিন বলেন, ১৯১৩ সালে  সাবেক বিভাগীয় কমিশনার কেসিদে মহোদয় জায়গা বরাদ্দ দেওয়ার পরবর্তী সময়ে কেসিদে ইনস্টিটিউট অফিসার্স ক্লাবে রূপ নেয়। দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণী কর্মচারীদের প্রাণের সংগঠন  এই ইনস্টিটিউট।  প্রতি দুই বছর অন্তর অন্তর সাধারণ সভা ও নির্বাচন হয়। এবারে ৮৭ তম সাধারণ সভা ও নির্বাচন অনুষ্টিত হচ্ছে। নির্বাচনে যারা বিজয় হয়েছেন তাদেরকে নিয়ে প্রাচীনতম সংগঠনকে আরো  শক্তিশালী ও মজবুত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
সাধারণ সভায়  বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক সভাপতি  আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইউনুস, উদয়ন বড়ুয়া, স্বদেশ শর্মা,  এম এ হাশেম, জাহাঙ্গীর আলম, মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন, নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, চৌধুরী নিউটন বড়ুয়া, নাসরিন আক্তার, নন্দিতা মজুমদার, মোঃ আইয়ুব ও হাসান সাহ প্রমুখ।
আনন্দ ভ্রমণ আয়োজন, ক্লাবের অবসরপ্রাপ্ত সদস্যগণকে সম্মাননা সংবর্ধনা ও বয়স্ক ভাতা প্রদান, শিক্ষা বৃত্তি প্রদান, চিকিৎসা ও মৃত্যুতে আর্থিক অনুদান প্রদান সহ সংগঠনের সদস্যদের কল্যাণার্থে নানামুখী  কার্যক্রম পরিচালনা করেন কে.সি. দে ইন্সটিটিউট অফিসার্সস ক্লাব।
শেয়ার করুন