সাপ্তাহিক পূর্বধারা পত্রিকা ও citynewstv24 এর সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেছেন, গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হলেও কার্যত এটি অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে । সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতা আজ শেকলে বন্দী। লেজুরভিত্তিক সাংবাদিকতার কারণে এই দশা পরিণত হয়েছে।
রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ ছাপানোর কাজ করে সম্পাদকরা কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কোন ধরনের সহযোগিতা পায় না । লেজুরভিত্তিক সাংবাদিকতা পরিহার করলে সংকট উত্তরণের সম্ভাব । রাষ্ট্রের উন্নয়নে স্বাধীন ও সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে সম্পাদকরা যেন অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে এবং কোন ঝক্কি ঝামেলায় পড়তে না হয় তার জন্যে সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রয়োজন। প্রবীণ সাংবাদিক ওসমান গনি মনসুরের অসামান্য অর্জন ও গণমাধ্যম অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতির স্বরুপ চট্টগ্রাম এডিটরস ক্লাব তাকে সংবর্ধিত করায় ক্লাবের একজন সদস্য হিসেবে আমি আনন্দিত। ভবিষ্যতে যেন গুণী ব্যক্তিদের কে সম্মান দেওয়া হয়।
২১ জুন রবিবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব আব্দুল খালেক মিলনায়তনে বিকাল ৪ টায় চট্টগ্রাম এডিটরস ক্লাবের উপদেষ্টা ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রথিতযশা গুণী সাংবাদিক ওসমান গনি মনসুর ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল ‘র নির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় চট্টগ্রাম এডিটরস ক্লাব কর্তৃক সংবর্ধনা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এই কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি এম এ মালেক বলেন,
অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংবাদ পরিবেশন করলেই সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয় ।
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রেস কাউন্সিলে হতে হবে, হুট করে মামলা করা উচিৎ নয়। আমি প্রেস কাউন্সিলের সদস্য থাকা অবস্থায় বহুবার এই বিষয়ে প্রস্তাবনা দিয়েছি । কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এটা বাস্তবায়ন করার অনুরোধ জানাচ্ছি।চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত দ্য পিপলস ভিউর সম্পাদক ওসমান গনি মনসুর বহুগুণে গুণান্বিত ও বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী একজন মানুষ। একজন দক্ষ সংগঠক, সৃজনশীল লেখক, নিবেদিত প্রাণ সাংবাদিক এবং মননশীল পাঠক হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। মনসুর শব্দের অর্থ বিজয়ী প্রকৃত অর্থে তার বিজয় হয়েছে সর্বক্ষেত্রে। আমার সাথে তার দীর্ঘদিনের পেশাগত সম্পর্ক রয়েছে । বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সু দীর্ঘকালীন একসাথে পথ চলা । বিশেষ করে ১৯৮৪ থেকে ৮৫ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে কাজ করার সুযোগ হয়েছিল। তার কর্মনিষ্ঠ নেতৃত্বের গুণাবলী ও সাংগঠনিক দক্ষতা প্রত্যক্ষ করেছি। আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক ছিল শ্রদ্ধা ও ভ্রাতৃত্ব ও সোহার্দ্যৈ দৃঢ় বন্ধনে আবদ্ধ। ওসমান গনি মনসুরের সাংবাদিকতা পেশায় অর্ধশতাব্দীর ও বেশি সময় পার করেছে। তিনি অনেক ঐতিহাসিক ঘটনা ও প্রবাহের সাক্ষী। পেশাগত উৎকর্ষের পরিধি ও পরিসর আন্তর্জাতিক স্তরে উপনীত। তিনি
কমেনওয়েলথ জার্নালিস্ট ফোরামের বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সাধারণ সম্পাদক। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা (এপি) ও সংবাদপত্র জগতে অদ্যবধি তার বিচরণ ঈর্ষণীয়। সম্প্রতি ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলরের নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার সংবাদ আমাকে অত্যন্ত আনন্দিত করেছে। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার আলোকে আমার দৃঢ় বিশ্বাস তার উপর অর্পিত দায়িত্ব তিনি সততা নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে সফলভাবে পালন করবেন এবং সংগঠনের অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন। তার দীর্ঘায়ু কামনা করার পাশাপাশি তার হাত ধরে সাংবাদিকতা পেশাজীবী সংগঠন আরোও অগ্রগতি ও সাফল্য কামনা করছি।
সংগঠনের সভাপতি সাপ্তাহিক পূর্ব বাংলার সম্পাদক সাংবাদিক এম. আলী হোসেন এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, ইউএসটিসি সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ডাক্তার প্রভাত চন্দ্র বড়ুয়া,চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব সভাপতি জাহিদুল করিম কচি ও চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব ও এডিটরস ক্লাবের উপদেষ্টা মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত ।অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্লাবের অর্থ সম্পাদক জসিম উদ্দিন ও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন দৈনিক দেশ বর্তমানের সম্পাদক এস এম জমির। ওসমান গনি মনসুরের সংক্ষিপ্ত জীবনী পাঠ করেন চট্টগ্রাম পোষ্টের সম্পাদক মোঃ আইয়ুব ।
এছাড়া অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন, ক্লাবের সহ-সাধারণ সম্পাদক ও সকালের সময় পত্রিকার সম্পাদক মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী, রেলওয়ে সাবেক গণসংযোগ কর্মকর্তা শফিকুল আলম খান ও সাংবাদিক এস এম জামাল উদ্দিন ।
সংবর্ধিত অতিথি ওসমান গনি মনসুর বলেন, আমার ছবি তোলার শখ থেকে সাংবাদিকতা শুরু। আমি দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা করেছি। কোন পদ পদবীর জন্য কারো কাছে গিয়ে তদবির করি নাই । আমার কাজের মূল্যায়ন করেছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। আজকে চট্টগ্রাম এডিটরস ক্লাব আমাকে সংবর্ধিত করায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত।
প্রবীণ সাংবাদিক মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত
বলেন,একটি সংবাদপত্রের প্রধান ব্যক্তি হচ্ছে সম্পাদক। সম্পাদক যদি মনে করেন কোন সংবাদ ছপানো উচিৎ তিনি তা ছাপাবেন,আর যদি মনে না করেন ছাপানো উচিত নয়, তবে তিনি তা ছাপাতে কারো কাছে বাধ্য নয়। সম্পাদক ও মালিকের দায়িত্ব এক নয়। সম্পাদকরা হলেন সংবাদ ও সাংবাদিকতার পেশার মর্যাদার প্রতীক । সম্পাদকরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে জাতীয় দুর্যোগে নেতৃত্ব দিতে পারেন।
জাহিদুল করিম কচি বলেন, ওসমান গনি মনসুরের সাথে আমার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের , একসাথে পথ চলতে গিয়ে, তার সম্পর্কে অনেক ধারণা আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে । তার এই অর্জন পুরো চট্টগ্রামবাসীকে প্রতিনিধিত্ব করে। আমি তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।
বক্তারা বলেন, সাংবাদিক ওসমান গনি মনসুর একদিনেই সৃষ্টি হয় নাই। তিনি সাংবাদিকতার পাশাপাশি অন্যান্য কর্মকান্ডেও একদম সফল ব্যক্তি ।তার বর্ণাঢ্য জীবনে অনেক ইতিহাস রয়েছে। তর এই অর্জন পুরো চট্টগ্রামবাসীকে সম্মানিত করেছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম এডিটরস ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ও দৈনিক বায়োজিদের সম্পাদক, মোঃ হাবিবুর রহমান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক ও দি ক্রাইম এর সম্পাদক আশীষ চন্দ্র নন্দী, বাংলাধারা সম্পাদক ফেরদৌস শিপন,
এজাহার সম্পাদক মোঃ শফিউল আলম, দি পিস সম্পাদক মোঃ মহিউদ্দিন চৌধুরী, ইস্টার্ন ট্রৈড সম্পাদক শেখ নজরুল ইসলাম মাহমুদ, আজকের সত্য সংবাদ এর সম্পাদক মোঃ হারুনুর রশিদ, সময়ের নিউজ মোহাম্মদ সাহিদ, চট্টলার কন্ঠ সম্পাদক কমল চক্রবর্তী, আন্দরকিল্লা সম্পাদক নুরুল আফছার ও চট্টগ্রাম নিউজের সম্পাদক হারাধন চৌধুরী প্রমুখ।
সংবাদটির পাঠক সংখ্যা : ১















